Logo
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ AM || প্রকাশের তারিখঃ ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ PM

রইজ আহমেদ সেলিমের বদলি নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

News Image

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট রইজ আহমেদ সেলিমকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগে সম্প্রতি গোপালগঞ্জ থেকে বরগুনায় বদলি করা হয়েছে। তবে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, রইজ আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রইজ আহমেদ সেলিম ২০০৪ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তাকে গোপালগঞ্জ থেকে বরগুনায় বদলি করা হয়।
রইজ আহমেদ সেলিম কোটালীপাড়ার একটি ঐতিহ্যবাহী ও স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। তার বাবা আব্দুল হক, যিনি ‘কালু মহাজন’ নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। পারিবারিকভাবে ব্যবসা ও সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও তিনি নিজ যোগ্যতা ও মেধার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথ বেছে নেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। শিক্ষাজীবনে ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং পরবর্তীতে গণপূর্ত অধিদপ্তরে চাকরি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি সিনিয়র অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের মতে, রইজ আহমেদ সেলিম একজন ভদ্র, নম্র, বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি। কর্মক্ষেত্রে তিনি সহকর্মীদের কাছে বিশ্বস্ত, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার ভালো ব্যবহার ও কর্মনিষ্ঠার কারণে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা আব্দুল হক ওরফে কালু মহাজন মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীনের দেওয়া একটি সনদও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান।
রইজ আহমেদ সেলিমের পরিবারের দাবি, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর’ হিসেবে যে অভিযোগ তুলে তাকে বদলি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তারা মনে করেন, যথাযথ তদন্ত ও সত্যতা যাচাই ছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ আনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দুঃখজনক।
এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা রইজ আহমেদ সেলিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাকে হয়রানি বা অন্যায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের শিকার না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
তাদের মতে, একজন মানুষের মূল্যায়ন তার রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং তার কর্মদক্ষতা, সততা, যোগ্যতা এবং কর্মক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন রইজ আহমেদ সেলিমের পরিবার ও এলাকাবাসী।